Home সারাদেশ বাইকে ছাত্রী নিহত, উবারের অসহযোগিতায় আসামি ধরতে ভোগান্তি পুলিশের

বাইকে ছাত্রী নিহত, উবারের অসহযোগিতায় আসামি ধরতে ভোগান্তি পুলিশের

Fahmida Haque Labonno-hello news bd

বাইকে ছাত্রী নিহত, উবারের অসহযোগিতায় আসামি ধরতে ভোগান্তি পুলিশের। উবারের একটি বাইক নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার সময় গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক লাবণ্য নিহত হয়।  ঘটনা তদন্তে ও দায়ী উবার চালককে গ্রেপ্তারে অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ও গাফিলতির কারণে দায়ীদের ধরতে ভোগান্তি পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার।

দুর্ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) উবারের মোটরসাইকেল ভাড়া নিলে যাত্রী ফাহমিদাকে নিয়ে বেপরোয়া গতিতে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন চালক সুমন। পথে অসৎ উদ্দেশে তিনি বারবার ব্রেক করছিলেন। এরপর দুর্ঘটনা ঘটলে মোবাইল ফোন বন্ধ করে সুমন পালিয়ে যান।

পুলিশের অভিযোগ সে ঘটনার পর চালককে খুঁজে পেতে উবার কর্তৃপক্ষের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য চাওয়া হলে তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। এছাড়া চালক সুমন উবারে রেজিস্ট্রেশনের সময় ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। উবারের এসব গাফিলতির কারণে সুমনকে খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়েছে।

শনিবার আশুলিয়ার বাইশ মাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ এবং এর চালক আনিসুর রহমানকে (২৮) আটক করা হয়। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে উবারের মোটরসাইকেল চালক সুমনকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবণ্য নিহত হন। মোটরসাইকেলটি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ডিসি বলেন, দুইজনই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের চেয়ে যেহেতু কাভার্ড ভ্যানের গতি বেশি, তাই কাভার্ড ভ্যানটি মোটরসাইকেলটিকে ওভারটেক করার সময় ধাক্কা দেয়। এতে শিক্ষার্থী লাবণ্য পড়ে গিয়ে কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হন।

মোটরসাইকেল চালক সুমন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও পুলিশ যাওয়ার আগে ফোন বন্ধ করে পালিয়ে যান। হাসপাতালে  সুমন যে ঠিকানা দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেটি ভুল ঠিকানা ছিল।

উবারের কাছে সুমনের যে ঠিকানা ছিল সেখানে খোঁজ নিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় গত ২৬ এপ্রিল ভোরে মোহাম্মদপুর থেকে সুমনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।

উবারসহ রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিকভাবে চালানোর জন্য চালকের শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা রয়েছে কি না সেগুলোও যাচাই-বাছাই করে না বলে ডিসি বিপ্লব অভিযোগ করেন। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে অসংখ্যবার উবারের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি বলেও জানান তিনি।

ডিসি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া ভুল ঠিকানায় রেজিস্ট্রেশন করে ফেললো উবার কর্তৃপক্ষ। এতে মোটরসাইকেল চালক সুমনকে খুঁজে পেতে বেগ পেতে হলো। যে কোনো ঘটনার পর অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা দ্রুত চেষ্টা করি, কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের পদে পদে বাধা পেতে হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ঈদ শপিংয়ে ট্রায়াল রুমের গোপন ক্যামেরা থেকে সাবধান

ঈদ শপিংয়ে ট্রায়াল রুমের গোপন ক্যামেরা থেকে সাবধান। আর কিছুদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদে …